• ad-5
    হোমিওপ্যাথি বিডি.কম ওয়েব সাইটে আপনি কি নতুন ? তা হলে এখানে ক্লিক করুন । হোমিওপ্যাথি বিডি.কম সাইট থেকে উপাজিত অর্থের এক অংশ গরীব দূঃখীদের জন্য ব্যায় করা হয় । একটি ফ্রী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জন্য তৈরী বাংলা ব্লগ সাইট ।

পৃথিবীর ইতিহাসে সবচাইতে প্রাচীন ১০টি রোগ

এই পোষ্টটি সংরক্ষণ করা অথবা পরে পড়ার জন্য নিচের Save to Facebook বাটনে ক্লিক করুন ।

নিজের আশেপাশে লক্ষ্য করলে মনে হয় পৃথিবীতে রোগ-শোক ছাড়া আর কিছু নেই। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রোগের খোঁজ পাচ্ছি আমরা। এর কিছু কিছু আবার হয়ে উঠছে প্রাণঘাতী। কখনো কি ভেবে দেখেছেন, প্রাচীনকালের মানুষদের রোগ-শোকের পরিস্থিতি কেমন ছিলো? প্রাচীন মিশরের ফারাওদেরও কি আমাদের মতো জ্বরে ভুগতে হতো? কি সেই সব রোগ যা সেই প্রাচীন কাল থেকে এখনো মানুষের মাঝে টিকে আছে?

প্রাচীন রোগের হদিস পেতে হলে অবশ্যই প্রাচীন মানুষের ওপরে গবেষণা করতে হবে। তার মানে হলো মমি নিয়ে গবেষণা। মমির শরীরে থেকে যাওয়া ক্ষত এবং ডিএনএ স্যাম্পল থেকে রোগের ধারণা পাওয়া যায়। জেনে নিন খুব প্রাচীন ১০ টি রোগ সম্পর্কে।
১) কলেরা

খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০ সালের দিকে এথেন্সের চিকিৎসাবিদ হিপোক্রেটিস বিভিন্ন রোগের তথ্য লিপিবদ্ধ করেন যার মাঝে কলেরার নামও ছিলো। তবে কলেরার উৎপত্তি হয় সম্ভবত গঙ্গা নদীর অববাহিকায়। পানির সরবরাহ আছে এমন জায়গায় কলেরা হতে পারে, তবে তা সবচাইতে ভয়াবহ হয়ে ওঠে সেখানেই যেখানে অনেক বেশি মানুষ অনেক কম জায়গায় বসবাস করছে।
২) টাইফয়েড

খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩০ থেকে ৪২৬ সাল পর্যন্ত ভয়াবহ এক মহামারী এথেন্সের নগর-রাষ্ট্রকে বিপর্যস্ত করে ফেলে। ইতিহাসবিদ থুসিডাইডিস এর যে চিত্র তুলে ধরেন তাতে বলা হয়, রোগীর মাথা এবং গলা প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে যায় এবং তার শ্বাসপ্রশ্বাস হয়ে ওঠে অস্বাভাবিক। এই রোগের প্রভাব পেটের ওপরে পড়লে প্রচণ্ড বমি হয় এবং সব ধরণের রস শরীর থেকে বের হতে থাকে। এর পরে সেই রোগ অন্ত্রে চলে যেতে পারে, সৃষ্টি করতে পারে ক্ষত এবং ডায়রিয়া যা থেকে আসে এমন এক দুর্বলতা যাতে রোগী মারা যেতে পারে। এই রোগের ফলে এথেন্স যুদ্ধে হেরে যায় স্পার্টার কাছে এবং অনেকদিন অচল থাকে তাদের সরকার ব্যবস্থা।
৩) কুষ্ঠ

কুষ্ঠের কথা বলা আছে বাইবেলের মতো প্রাচীন পুস্তকে। কিন্তু এর চাইতেও প্রাচীন পুঁথিতে কুষ্ঠের বর্ণনা আছে। খ্রিষ্টপূর্ব ১৫৫০ সালে “এব্রাস প্যাপাইরাসে” একে “খনসু” বলে বর্ণনা করা হয়, বলা হয় এর বিরুদ্ধে করার কিছু নেই।
৪) স্মল পক্স

মিশরীয় মমিতে নরম কোষ-কলাকে সংরক্ষণ করা হতো। এ কারণে সেই মমিতে স্মল পক্সের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া ছিলো সহজ। স্মল পক্সের চিহ্ন পাওয়া গেছে এমন সবচাইতে পুরনো মমি হলো খ্রিষ্টপূর্ব ১৫৮০ সালের একটি মমি।
৫) জলাতঙ্ক

জলাতঙ্ক রোগটি বেশ ভয়ংকর, কারণ তা রোগীর মস্তিষ্ক এমনভাবে কব্জা করে যেন সে কামড়াতে উদ্যত হয়ে ওঠে এবং রোগটিকে আরও বেশি ছড়াতে সাহায্য করে। খ্রিষ্টপূর্ব ২৩০০ সালেও এর অস্তিত্ব ছিলো, জানা যায় ব্যাবিলনের ইশুমা কোড থেকে।
৬) ম্যালেরিয়া

রোমানদের সময় থেকেই ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে মানুষ যুদ্ধ করার চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এই রোগে প্রতি বছর মৃত্যুবরণ করে এক মিলিয়নের মানুষ। এর ব্যাপারে সবচাইতে পুরনো তথ্য পাওয়া যায় খ্রিষ্টপূর্ব ২৭০০ সালের চাইনিজ “নেই চিং” পুঁথিতে।
৭) নিউমোনিয়া

প্রতি দিন মানুষ ১১ হাজার লিটারেরও বেশি বাতাসে শ্বাস প্রশ্বাস নেয়। এ কারণে ফুফুসের মাঝে বাসা বেঁধে থাকে প্রচুর পরিমাণ জীবাণু। যখন এদের কারণে ফুসফুসে তরল জমা হয়, সেটাকেই বলা হয় নিউমোনিয়া। হিপোক্রেটিস এর ব্যাপারে লিখেছিলেন, কিন্তু তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে এই রোগ অনেক প্রাচীন। হিপোক্রেটিসের কাছেই যদি এই রোগ প্রাচীন হয়ে থাকে তবে তার উৎপত্তি নিঃসন্দেহে আরও অনেক অনেক আগে। এর ব্যাপারে সঠিক জানা যায় না কারণ মমিতে ফুসফুসের কোষ-কলা সংরক্ষণ করা যায় না। তবে ধারণা করা হয়, যখন থেকে মানুষের ফুসফুস আছে, তখন থেকেই আছে এই রোগটিও।
৮) যক্ষ্মা

মমির দেহাবশেষ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যক্ষ্মা রোগটি কমপক্ষে ৯,০০০ বছরের পুরনো। ধারণা করা হতো গরু থেকে এসেছে এই রোগটি, কিন্তু মমির ওপরে বিশদ গবেষণার পর দেখা যায় তা সত্যি নয়।
৯) ট্রাকোমা

ট্রাকোমা হলো চখের উপরের পাতার এমন এক ইনফেকশন যাতে চোখের পাতা কুঁচকে পাপড়িগুলো চোখের ভেতরের দিকে বেঁকে যায়। ফলশ্রুতিতে পাপড়ির ঘষা লেগে এক সময়ে মানুষটির কর্নিয়া নষ্ট হয়ে যায়। এই রগেই অন্ধ হয়ে যান ইটিয়াস, পলাস ইজিনেটাস, আলেক্সান্ডার, ট্রেইলাস, হোরাস এবং সিসেরো। হিপোক্রেটিস এবং মিশরের এব্রাস প্যাপাইরাস উভয়েই এই রোগের বর্ণনা আছে। তবে এই রোগের সবচাইতে প্রাচীন নমুনা পাওয়া যায় অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের কঙ্কালে। খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০০ সালের পুরনো এক কঙ্কালে এই রোগের লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায়।
১০) রকি মাউন্টেইন স্পটেড ফিভার

এই রোগটি খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে নেওয়া হয়নি মমি বা ফসিলের সাহায্য। ধারণা করা হয় আমাদের কোষের একটি অঙ্গাণু, মাইটোকন্ড্রিয়া এসেছে অন্য কোনো ব্যাকটেরিয়ার শরীর থেকে অর্থাৎ তাদের তৈরি করা ইনফেকশনের কারণে। মানুষের মাইটোকন্ড্রিয়া এবং বিভিন্ন জীবাণুর মাইটোকন্ড্রিয়ার তুলনা করে দেখা যায় সবচাইতে বেশি মিল আছে যেসব জীবাণুর সাথে তার মাঝে অন্যতম হলো রকি মাউন্টেইন স্পটেড ফিভার। এর কোনো এক প্রাচীন আত্মীয়ই সম্ভবত ছিলো সবচাইতে প্রাচীন রোগ।

ঔষধি গাছ সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

-
namaj.info bd news update 24 short film bd _Add
.
*** নিজে সুস্থ থাকি , অন্যকে সুস্থ রাখি । সাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ে যে কোন প্রশ্ন থাকলে জানাতে পারেন ! হোমিওপ্যাথি বিডি.কম একটি ফ্রী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জন্য তৈরী বাংলা ব্লগ সাইট । ***