সিজিজিয়াম জ্যাম্বোলেনাম – Syzygium jambolanum

Syzygium jambolanum – দেশীয় কালজামের বীজ হতে প্রস্তুত। মুত্রে শর্করা বেশী এরুপ বহুমুত্র (Diabetes) রোগের উৎকৃষ্ট ওষুধ।
বোরিক বলেন, প্রস্রাবে শর্করার পরিমাণ কমাতে বা একবারে দূর করতে এই ওষুধের তুলনা নেই। ইনসুলিন ওষুধটি এর সমগুন বা সহযোগী ওষুধ।

Syzygium jambolanum – উত্তাপের অনুভূতি, তৃষ্ণা অত্যধিক, ঘন্টায় ঘন্টায় প্রচুর প্রস্রাব, দেহ শুকিয়ে যায়, প্রস্রাবে শর্করা, স্পেসিফিক গুরুত্ব কম, দেহে লাল লাল ফুস্কুড়ি, ঘা হয়, কার্বাঙ্কল  লক্ষণে প্রয়োগ করতে হয় । বিভিন্ন স্থানে বিশেষতঃ পিঠে বেদনা, প্রস্রাব করার পরেই অত্যন্ত দুর্বলতাবোধ । অম্ল লক্ষণ যুক্ত বহুমুত্র রোগী, উপরোক্ত লক্ষণে দারুন উপযোগী ।

Hepar sulphur – হিপার সালফার

হিপার সালফার হলো ফোড়া সবচেয়ে বিখ্যাত হোমিও ঔষধ। যে-সব ফোড়ায় সাংঘাতিক ব্যথা থাকে; ব্যথার কারণে স্পর্শ করা যায় না, তাতে হিপার ব্যবহার করতে ভুলবেন না। ফোড়া পাকাতে চাইলে নিম্নশক্তিতে (৩,৬) খান আর ফোড়া না পাকিয়ে সারাতে চাইলে উচ্চশক্তিতে (২০০) খান।

Calendula Officinalis – ক্যালেন্ডুলা

কোনো স্থান কেটে গেলে রক্তপাত বন্ধ করতে এবং চামড়া জোড়া লাগাতে Calendula Officinalis (শক্তি Q) ঔষধটি তুলায় লাগিয়ে আক্রান্ত স্থানে প্রয়োগ করুন। কেটে যাওয়া স্থানে পূঁজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে Hepar sulph কিংবা Mercurius solubilis (শক্তি ২০০) তিনবেলা করে খান যতদিন ক্ষত না শুকায়।

Bellis perennis – বেলিস পিরেনিস

বেলিস পিরেনিস ব্রণের একটি উৎকৃষ্ট ঔষধ যদি তাতে জ্বালা-পোড়া থাকে।

Calcarea phosphorica – ক্যালকেরিয়া

ক্যালকেরিয়া ফস হলো ব্রণের সবচেয়ে কমন এবং সবচেয়ে কাযর্কর ঔষধ। রোজ দুইবেলা করে এক বা দুই সপ্তাহ খান।

Staphisagria – স্টেফিসেগ্রিয়া

বিড়ি-সিগারেট অর্থাৎ ধূমপানের নেশা ছাড়াতে স্টেফিসেগ্রিয়া একটি শ্রেষ্ট ঔষধ। এটি ধূমপানের প্রতি আকর্ষণ কমিয়ে দিয়ে সেটি বন্ধ করতে সাহায্য করে। এটি Q, ৩, ৬, ৩০ ইত্যাদি যে-কোন শক্তিতে খেতে পারেন ; তবে যত নিম্নশক্তিতে খাওয়া যায় তত উত্তম। রোজ পাঁচ ফোটা করে সকাল-সন্ধ্যা দু’বার।

Staphisagria – ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অনেকটুকু কেটে গেলে, গভীরভাবে কেটে গেলে, মসৃনভাবে কেটে গেলে Staphisagria নামক ঔষধটি আল্লাহর নাম নিয়ে তিনবেলা করে কিছুদিন খেয়ে যান। যাদু আর কাকে বলে দেখতে পাবেন !

Tabacum – টেবেকাম

ঔষধটিও ধূমপানের নেশা দূর করতে সাহায্য করে। এটি Q, ৩, ৬, ৩০ ইত্যাদি যে-কোন শক্তিতে খেতে পারেন ; তবে যত নিম্নশক্তিতে খাওয়া যায় তত উত্তম। রোজ পাঁচ ফোটা করে সকাল-সন্ধ্যা দু’বার। ধূমপানের নেশা ছাড়াতে আরেকটি উৎকৃষ্ট ঔষধ হলো চায়না (China officinalis).

Natrum Phosphoricum – নেট্রাম ফস

নেট্রাম ফস ঔষধটি মরফিন, প্যাথেডিন এবং হিরোইনের নেশা বন্ধ করতে সাহায্য করে থাকে। নেট্রাম ফস নিম্মশক্তিতে (Q, ৩, ৬) দশ ফোটা করে রোজ তিনবার করে খেতে থাকুন এবং উল্লেখিত নেশাসমূহ প্রতি সপ্তাহে ধীরে ধীরে কমাতে থাকুন। তারপর এক সময় একেবারে বন্ধ করে দিন। দীর্ঘদিন সেবনের পর এসব নেশাদ্রব্য বন্ধ করলে শরীরের যে-সব সমস্যা হতে পারে, নেট্রাম ফস সেগুলোকে দূর করে দিবে।

Sulphuricum acidum – সালফিউরিক এসিড

সালফিউরিক এসিড ঔষধটি মদ-ফেনসিডিলের নেশা ছাড়তে একটি অসাধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ঔষধ। সাধারণত দু’চার দিন খাওয়ার পর থেকেই মাদকাসক্ত ব্যক্তি মদ-ফেনসিডিলের প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। নিম্নশক্তিতে (Q, ৩, ৬ ইত্যাদি) ৫ থেকে ১০ ফোটা করে রোজ তিনবার দুই থেকে কয়েক সপ্তাহ খেতে পারেন। এমনকি নেশায় আসক্ত ব্যক্তি যদি ঔষধ খেতে না চায়, তবে তার মদ বা ফেনসিডিলের সাথে মিশিয়ে খাওয়ালেও কাজ করবে। তাছাড়া পানি, চা, দুধ ইত্যাদির সাথেও মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন।

Asarum europaeum – এসারাম ইউরো

এসারাম ইউরো শরীরের ওপর মদ-ফেনসিডিলের প্রভাব কমিয়ে মদ্যপানের নেশা ছাড়তে সাহায্য করতে পারে। নিম্নশক্তিতে (Q, ৩, ৬ ইত্যাদি) ৫ থেকে ১৫ ফোটা করে রোজ তিনবার খেতে পারেন। হ্যাঁ, প্যাথেডিন, হিরোইনের নেশা ছাড়াতেও এটি একই মাত্রায় ব্যবহার করতে পারেন।

Avena Sativa – এভেনা স্যাটাইভা

হিরোইন, প্যাথেডিনের নেশা দূর করতে এভেনা সেটাইভা একটি শ্রেষ্ট ঔষধ। যারা হিরোইন বেশী পরিমাণে খান, তারা ধীরে ধীরে ইহার মাত্রা কমিয়ে আনুন এবং পাশাপাশি এভেনা স্যাটাইভা পনের ফোটা করে রোজ তিনবেলা করে খেতে থাকুন। পক্ষান্তরে যারা অল্প পরিমাণে হিরোইন-প্যাথেডিন নেন, তারা এগুলো পুরোপুরি বন্ধ করে দিন এবং তার বদলে এভেনা স্যাটাইভা পঞ্চাশ ফোটা করে রোজ তিনবেলা খান। এতে কোন শারীরিক সমস্যা হবে না। সাধারণত এসব মাদকদ্রব্য হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে শরীরে যে-সব মারাত্মক সমস্যা (withdrawal symptoms) দেখা দেয়, এভেনা সেটাইভা সেগুলোকে সফলতার সাথে সামাল দিতে পারে। এটি মাদার টিংচার (Q) শক্তিতে এবং আধা গ্লাস হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে খাবেন।

Jaborandi – জ্যাবোরেন্ডি

জ্যাবোরেন্ডি ঔষধটি টাকে চুল গজানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত হয়। এটি দীর্ঘদিন ব্যবহারে কিংবা খাওয়ার ফলে সাদা চুলও কালো হয়ে যায়। এটিও নিম্নশক্তিতে (Q, ৩, ৬) তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করুন অথবা সরাসরি টাক পড়া স্থানে মালিশ করতে পারেন।

Actea racemosa

(মাসিক বন্ধ থাকা, ঋতুস্রাব না হওয়া) এটি নার্ভাস ধরণের মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিশেষত যারা ঘন ঘন বাতের ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। মনে আনন্দ নাই এবং সবকিছুরই খারাপ দিকটা আগে চিন্তা করেন।

Lachesis – ল্যাকেসিস

(মাসিক বন্ধ থাকা, ঋতুস্রাব না হওয়া) ল্যাকেসিসের লক্ষণ হলো পিরিয়ড শুরু হলে নাক থেকে রক্তক্ষরণ এবং মাথা ব্যথা ভালো হয়ে যায়।

Lachesis – ল্যাকেসিস গ্যাংগ্রিনের আরেকটি শ্রেষ্ট ঔষধ। সাপের বিষ থেকে তৈরী এই ঔষধটির প্রধান প্রধান লক্ষণ হলো আক্রান্ত স্থান নীলচে অথবা বেগুনি রঙ ধারণ করে, অল্প একটু কাটা থেকে প্রচুর রক্ত যায়, বেশী ভাগ ক্ষেত্রে রোগ প্রথমে শরীরের বাম পাশে আক্রমণ করে এবং সেখান থেকে ডান পাশে চলে যায়, সাংঘাতিক ব্যথার কারণে আক্রান্ত স্থান স্পর্শই করা যায় না, ঘুমের মধ্যে রোগের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, বেশী বেশী কথা বলে, হিংসুটে স্বভাবের ইত্যাদি ইত্যাদি।

Senecio aureus – নিসিও অরিয়াস

(মাসিক বন্ধ থাকা, ঋতুস্রাব না হওয়া) শরীরে রক্ত কম থাকলে অর্থাৎ যারা রক্তশূণ্যতায় ভোগছেন, তাদের জন্য সিনিসিও অরিয়াস ভালো কাজ করে। এদের হাত-পা সব সময় ঠান্ডা এবং ঘামে ভিজা ভিজা থাকে।

Hydrocotyle asiatica – হাইড্রোকোটাইল

(মুখের ঘা) হাইড্রোকোটাইল আরেকটি ভালো ঔষধ বিশেষত যাদের নিজেদের বা বংশগত সিফিলিসের ইতিহাস আছে।

Borax – বোরাক্স

বোরাক্স হলো মুখের ঘায়ের এক নাম্বার ঔষধ। ইহার প্রধান লক্ষণ হলো নীচে নামতে ভয় পায়। শিশুকে হাত দিয়ে উপরে ধরে তারপর আস্তে আস্তে নীচে নামান, দেখবেন ভয় পায় কিনা। যদি ভয় পায় তবে কেবল মুখের ঘা নয়, শিশুর যে-কোন শারীরিক-মানসিক রোগই বোরাক্সে সেরে যাবে।