• ad-5

চিকিৎসা বিজ্ঞানের বাধা নিরসনে হোমিওপ্যাথিক ইমিউনোমডুলেশন

এই পোষ্টটি সংরক্ষণ করা অথবা পরে পড়ার জন্য নিচের Save to Facebook বাটনে ক্লিক করুন ।

মানবদেহে রোগজীবাণু প্রবেশ করে সৃষ্টি করে টক্সিন বা রোগবিষ । এই টক্সিনের দ্বারাই রোগ সৃষ্টি হয়। ঐ রোগবিষসমূহকে সনাক্ত করে ধ্বংস করে থাকে ইমিউন সিস্টেম বা রোগপ্রতিরোধ বাহিনী। দেহের দুর্বল রোগপ্রতিরোধ বাহিনী যখন শক্তিশালী রোগবিষসমূহকে দেহের ভিতর ধবংস করতে উদ্যত হয় তখন যে লড়াই সংঘটিত হয় তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সুস্থ দেহকোষ, ফলে জন্ম নেয় নানাবিধ জটিল রোগ, যার নাম ইমিউনোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার বা ‘রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা’ জনিত রোগ। এর ফলে জন্ম নেয় এ্যাজমা বা হাঁপানী, এ্যালার্জি, রক্তশূণ্যতা, কিডনি প্রদাহ, সন্ধিবাত, এস এল ই, কুষ্ঠ ইত্যাদি শত শত রোগ, যার কোন আরোগ্যকারী চিকিত্সা নেই।
আবার কখনো কখনো রোগপ্রতিরোধ বাহিনী ভুলবশতঃ রোগবিষ ধবংস না করে দেহের প্রয়োজনীয় উপাদানকে ধবংস করতে শুরু করে। যেমন, বিজাতীয় শত্রু ভেবে ইনসুলিনকে ধবংস করার ফলে জন্ম নেয় ডায়াবিটিসের মতো রোগ। এ ধরনের রোগের নাম অটোইমিউন ডিজিজ বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার স্বপক্ষ বিরোধী রোগ। আবার রোগপ্রতিরোধ বাহিনী অত্যধিক দুর্বল হলে কোন যুদ্ধই হয় না, তখন দেহ বহিরাগত জীবাণু এবং ভাইরাস জাতীয় শত্রুর আবাসভূমিতে পরিণত হয়। এর নাম ইমিউনোডিফিশিয়েন্সি বা রোগপ্রতিরোধ বাহিনীর দুর্বলতাজনিত রোগ। যার পরিণতি হচ্ছে ক্রমাগত রোগের প্রবণতা থাকা এবং অবশেষে ধীরে ধীরে নানাবিধ ক্যান্সারের সৃষ্টি হওয়া।
এর সমাধান হচ্ছে দেহের ইমিউন সিষ্টেম বা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে সুস্থ ও সবল রোগপ্রতিরোধ বাহিনীর জন্ম দেওয়া। এর জন্য প্রয়োজন
(ক) ইমিউনোমডুলেশন বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এবং
(খ) বোনম্যারো ষ্টিমুলেশন বা মজ্জার শক্তি বৃদ্ধিকরণ।
ইমিউনোমডুলেশন বা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণের জন্য আবিষকৃত হয়েছে বিবিধ সাইটোকাইন জাতীয় উপাদান এবং বোনম্যারো ষ্টিমুলেশন বা মজ্জার শক্তি বৃদ্ধিকরণের জন্য আবিষকৃত হয়েছে গুটিকয়েক উপাদান যা প্রধানতঃ ক্যান্সার চিকিত্সার ক্ষেত্রেই পরীক্ষিত হচ্ছে।
কিন্তু উপরোক্ত ইমিউনোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার বা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা জনিত রোগ চিকিতসার ক্ষেত্রে এ সকল উপাদান তেমন কোন সুফল বয়ে আনতে পারেনি। এতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রসত্দ হয়ে পড়েছে। এর বিকল্প হতে পারে আয়ূর্বেদ, ইউনানী এবং হোমিওপ্যাথির মত প্রাচীন চিকিত্সা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত (ক) বিবিধ ভেষজ, (খ) ব্যাকটেরিয়াল এন্ডোটক্সিন বা জীবাণুর মৃতদেহ থেকে নেওয়া বিষ এবং (গ) ক্যান্সারজনিত টিউমার থেকে নেওয়া বিষাক্ত রস এর পর্যায়ক্রমিক প্রয়োগ, যা মূলতঃ ফ্রয়েন্ডস কমপ্লিট এ্যাডজুভ্যান্ট বা ‘ফ্রয়েন্ডের আবিষকৃত পরিপূর্ণ উদ্দীপক এর মত ইমিউনোমডুলেশন বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের শক্তিসম্পন্ন। এর পাশাপাশি প্রয়োজন (ঘ) রেডিয়াম ও ইউরেনিয়ামের মত তেজষ্ক্রিয় পদার্থের সূক্ষ্মমাত্রায় ওরাল এ্যাডমিনিসট্রেশন বা মৌখিক প্রয়োগ, যার ক্রিয়া বোনম্যারো ষ্টিমুলেশন বা মজ্জার শক্তিবর্ধন।
এম্পিরিক্যাল বা ‘পরীক্ষামূলক’ পদ্ধতিতে অসুস্থ মানবদেহে ইনজেকশনের পরিবর্তে উপরোক্ত উপাদানসমুহের পর্যায়ক্রমিক এবং মৌখিক প্রয়োগ, ইমিউনোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার বিশৃঙ্খলাজনিত রোগের বেলায় আরোগ্যকারী বলে প্রমাণিত হয়েছে।
হিউমরাল বা দেহরসগত, সেলুলার বা কোষগত এবং মেডুলার বা মজ্জাগত এই তিনটি ক্ষেত্রে ক্রিয়াশীল উপরোক্ত উদ্ভিদজাত, জীবাণুজ, রোগজ এবং তেজষ্ক্রিয় পদার্থসমুহের ব্যবহার অনিয়মতান্ত্রিকভাবে অল্টারনেটিভ মেডিসিন বা বিকল্প চিকিত্সা পদ্ধতিতে বিগত প্রায় কয়েক শতাব্দী যাবত বিশ্বের নানা দেশে চলে আসছে, যার আরোগ্যক্রিয়ার সঠিক বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা অল্টারনেটিভ বা বিকল্প চিকিত্সাপন্থী গবেষকেরা ইমিউনোলজির জ্ঞানের অভাবে দিতে সক্ষম হচ্ছেন না।
সঠিক ব্যাখ্যার অভাবে প্রাচীন অথচ কার্যকর চিকিত্সা পদ্ধতিগুলো আধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞানীদের নিকট গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছেনা। এর ফলে আধুনিক এ্যালোপ্যাথিক চিকিত্সা বিজ্ঞানীগণ কেবলমাত্র প্যালিয়েটিভ বা ‘রোগকষ্ট উপশমকারী’ এবং ইমিউনোসাপ্রেসিভ বা ‘রোগপ্রতিরোধ শক্তি অবদমনকারী’ চিকিতসার দ্বারা ইমিউনোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার বিশৃঙ্খলাজনিত রোগসমুহকে নিয়ন্ত্রণ করে চলেছেন।
তাই যথার্থভাবে রোগমুক্ত সুস্থ দেহের পরিবর্তে রোগবিষে ভারাক্রান্ত ওষুধনির্ভর দেহ নিয়ে মানুষ খামারে কৃত্রিম পরিবেশে পালিত জন্তুর মত বেঁচে থাকছে । অথচ উপরোক্ত বিকল্প চিকিতসা পদ্ধতিসমূহকে ইমিউনোলজির জ্ঞানের দ্বারা কিঞ্চিত সমৃদ্ধশালী করে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রয়োগ করে মানবজাতিকে একটি রোগমুক্ত শরীর উপহার দেওয়া সম্ভব, যা কম ব্যয়বহুল এবং যার সুফল দীর্ঘমেয়াদী। এর ফলে শূধু যে দেহ রোগমুক্ত হবে তাই নয় বরং মানবজাতির আয়ুষ্কালকে দীর্ঘায়িত করার বিজ্ঞানীদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।
আয়ূর্বেদ, ইউনানী, হোমিওপ্যাথি ইত্যাদি প্রাচীন চিকিতসা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক উপাদানসমূহের সূক্ষ্ম মাত্রার মৌখিক প্রয়োগকে ইমিউনোলজির জ্ঞান দ্বারা পরিচালিত করে উদ্ভাবিত হয়েছে এক চিকিত্সা পদ্ধতি যার নাম হচ্ছে হোমিওপ্যাথিক ইমিউনোমডুলেশন, যার ব্যবহার চিকিত্সা বিজ্ঞানের প্রতিবন্ধকতাকে দূর করে মানবজাতিকে করবে রোগমুক্ত দীর্ঘজীবনের অধিকারী।

ঔষধি গাছ সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

namaj.info bd news update 24 short film bd _Add
.
*** নিজে সুস্থ থাকি , অন্যকে সুস্থ রাখি । সাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ে যে কোন প্রশ্ন থাকলে জানাতে পারেন ! হোমিওপ্যাথি বিডি.কম একটি ফ্রী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জন্য তৈরী বাংলা ব্লগ সাইট । ***