• ad-5

হোমিওপ্যাথি কি?

এই পোষ্টটি সংরক্ষণ করা অথবা পরে পড়ার জন্য নিচের Save to Facebook বাটনে ক্লিক করুন ।

“হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা একটি বিজ্ঞান সম্মত আধুনিক চিকিৎসা ব্যাবস্থা”; হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ক্ষেত্রে নিউটনের তৃতীয় সূত্র প্রত্যেক ক্রিয়াই সমান বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে এ সূত্রের ভিত্তিতে এ চিকিৎসা ব্যাবস্থা। রোগ ও ঔষধ দুটিই শক্তি। ঔষধ শক্তির ধর্ম হইলরোগ শক্তিকে আঘাত করা ও প্রতিহত করা। বৈজ্ঞানিক নিয়ম হল Similar Repels অর্থ্যাৎ সদৃশ প্রতিহত করে। রোগ ও ঔষধ সদৃশ। প্রাকৃতিক রোগের বিরুদ্ধে ঔষধজ কৃত্রিম নিযুক্ত করা হইলে প্রাকৃতিক সদৃশ নীতিতে উভয়ের মধ্যে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া চলিতে থাকে।

নিউটনের তৃতীয সূত্র হইল প্রত্যেক ক্রিয়ার একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।

মহাত্মা হ্যানিমানের চিকিৎসা ব্যাবস্থায় বিশ্বজনীন প্রাকৃতিক আরোগ্য নীতি হইলঃSimilia Similibus Curenture- অর্থ্যাৎ সদৃশকে সদৃশ দ্বারা প্রতিহত করিয়া আরোগ্য সাধন করা। প্রথিবীতে যা কিছুই ঘটে তাহা ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া ফলেই ঘটিয়া তাকে। কাজেই প্রতিটি ঘটনার দুইটি দিক আছে। একটি ক্রিয়া অপরটি প্রতিক্রিয়ার। ক্রিয়া যত বেগে দেওয়া হয়, প্রতিক্রিয়াও তত বেগে দেখা দিবে।এই ক্রিয়া দুই প্রকার। একটি শুভ অন্যটি অশুভ। রোগ মাত্রই অশুভ। এই অশুভ শক্তির ক্রিয়া হইতে বাঁচিবার জন্য দেহের ভিতরে অবস্থিত জীবনী শক্তি প্রতিক্রিয়া চালায়।

রোগ শক্তির ক্রিয়া আর জীবনশক্তির প্রতিক্রিয়ার সমান হইলে আমরা সুস্থ হইনা। ইহাকে বলে সদৃশ সদৃশকে প্রতিহত করে। অন্যদিকে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার চাইতে প্রবলতর হইলে আমরা সুস্থ হই। ইহাকে বলে সদৃশ আর্কষন করে। যখন অধিক শক্তিশালী ঔষধ দ্বারা ক্রিয়া প্রদর্শিত হয় তখন রোগের দিক হইতে প্রতিক্রিয়ার ভারসাম্যও অভাব ঘটে এবং রোগের বিপর্যয় ঘটে।

ফলে আমরা আরোগ্য লাভ করি। তাই বলা হয় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ক্ষেত্রে নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্রের সমতুল্য। অর্থ্যাৎ প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।
হোমিওপ্যাথি-র সূচনা:
হোমিওপ্যাথি আজকাল একটা দ্রুত বেড়ে ওঠা পদ্ধতি এবং প্রায় সারা পৃথিবীতেই চর্চা হচ্ছে। ভারতবর্ষে এটা গার্হস্থ্য নাম হয়ে গেছে এর পিলগুলির নিরাপত্তা এবং সারানোর মৃদুতার জন্য। একটা খসড়া গবেষণা বলে যে ভারতীয় জনতার প্রায় ১০% শুধুমাত্র হোমওপ্যাথির উপর নির্ভর করে তাদের স্বাস্থ্য-যত্নের প্রয়োজনের জন্য এবং এটাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় চিকিত্সা পদ্ধতি বিবেচনা করা হয়।

দেড়শ বছরের বেশী হয়ে গেছে যে ভারতবর্ষে হোমিওপ্যাথির চর্চা চলছে। দেশের ভিত্তি এবং ঐতিহ্যের সাথে এটা এমনভাবে মিশে গেছে যে এটা একটা জাতীয় চিকিত্সাপদ্ধতি হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক লোকের স্বাস্থ্য-যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এটার শক্তি এর কর্মক্ষমতার থেকে প্রমাণিত হয় যখন এটা অসুস্থ রোগীর প্রতি সম্যকরুপে মনোযোগ দেয়, অন্তর্বর্তী মানসিক, আবেগজনিত, আধ্যাত্মিক এবং শারীরিক স্তরে উন্নয়নের মাধ্যমে।

হোমিওপ্যাথি শব্দটি এসেছে দুটো গ্রীক শব্দ থেকে, ‘হোমোয়িস’, যার মানে ‘একইরকম’ এবং প্যাথোস, যার মানে ‘কষ্ট’। সহজ কথায় হোমিওপ্যাথি মানে খুব ছোট মাত্রায় প্রতিষেধক, যেটা সুস্থ লোকে নিলে তার মধ্যে রোগের অভিলক্ষণ দেখা যাবে, তা দিয়ে রোগের চিকিত্সা করা। এটার ভিত্তি স্বাভাবিকভাবে সেরে ওঠার পদ্ধতি – “সিমিলিয়া সিমিলিবাস কিউরিয়ান্টুর” মানে “একই প্রকারের দ্রব্য দিয়ে একই প্রকারের চিকিত্সা”। 19 শতকের প্রথম দিকে ডঃ স্যামুয়েল হানিম্যান (১৭৫৫-১৮৪৩) এটাকে একটা বিজ্ঞান সম্মত ভিত্তি দেন। এটা দুঃখভোগী মানব জীবন কে দুই শতক ধরে সেবা করে আসছে এবং সময়ের উত্থান-পতনের সাথে যুঝে প্রমাণিত চিকিত্সা পদ্ধতির স্বীকৃতি পেয়েছে, হানিম্যানের দ্বারা উপস্থাপন করা বিজ্ঞানসম্মত সূত্র স্বাভাবিক এবং প্রমাণিতবলে আজও সফলতার সাথে চর্চা হচ্ছে।

নিরাময় সমূহ:
হোমিওপ্যাথিতে “প্রতিষেধক” একটা কারিগরী শব্দ যেটা একটা রোগীর ব্যবহারে প্রয়োগের উদ্দেশ্যে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরী বস্তুকে বোঝায়; এটাকে শব্দটির সাধারণভাবে গৃহীত অর্থের সাথে গুলিয়ে ফেলা যাবে না, যার মানে হচ্ছে “একটা ওষুধ বা চিকিত্সা যা রোগ সারায় বা ব্যাথা কমায়”।

হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সকেরা নিরাময় পরামর্শ দেওয়ার সময় দুই রকমের সূত্রের উপর ভরসা করেনঃ মেটেরিয়া মেডিকা এবং তথ্যভান্ডার। একটা হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা “ড্রাগের ছবির” সমন্বয়, “নিরাময়” এর ভিত্তিতে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো, যা প্রতিটি ‘নিরাময়’ এর সাথে সম্পর্কিত অভিলক্ষণগুলি বর্ণনা করে।

হোমিওপ্যাথি নিরাময়ে, অনেক পশুপাখী, চারাগাছ, খনিজ এবং কৃত্রিম পদার্থ ব্যবহার করা হয়.। উদাহরণের মধ্যে আছে আর্সেনিকাম এ্যাল্বাম(আর্সেনিক অক্সাইড),ন্যাট্রাম মুরিএ্যাটীকাম(সোডিয়াম ক্লোরাইড বা সাধারণ নুন),ল্যাচসিস মুটা(বুশমাষ্টার সাপের বিষ),আফিং, এবং থাইরোডিনাম (থাইরয়েড হরমোন)। হোমিওপ্যাথরা নোসোডেস (গ্রীক ওয়ার্ড নোসোস, রোগ, থেকে) নামে একটা চিকিত্সাও ব্যবহার করে, রোগপূর্ণ বা রোগবিদ্যা সম্বন্ধীয় প্রোডাক্ট থেকে যেমন মল, মূত্র, শ্বাসের সাথে নির্গত বস্তু এবং টিস্যু। সুস্থ নমুনা থেকে প্রস্তুত নিরাময়কে সারকোডেস বলা হয়।

প্রস্তুতি:
হোমিওপ্যাথি নিরাময়ে অদ্রবনীয় পদার্থ, ঝিনুকের খোলা এবং দানাদার সিলিকা, ব্যবহারের জন্য খল ও নুড়ি কাজে লাগানো হয়। রোগের জন্য নিরাময় প্রস্তুতিতে হোমিওপ্যাথরা ডায়নামাইজেশন বা পটেন্টাইজেশন বলে একটা পদ্ধতি ব্যবহার করে যেটার মধ্যে একটা পদার্থকে এ্যালকোহল বা পরিস্রুত জলে মিলিয়ে নিয়ে দশবার শক্ত ধাক্কা লাগানো হয় একটা নমনীয় বস্তুর সাথে, সাক্কুসিয়ন বলে একটা প্রক্রিয়ায়।

হানিম্যান ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন এমন বস্তু যা রোগের অভিলক্ষণের মত একই অভিলক্ষণ দেবে, কিন্তু দেখলেন যে সেই বস্তুর মাত্রা দেওয়ায় অভিলক্ষণ বেড়ে যায় এবং অবস্থা আরও খারাপের দিকে যায় এবং বেশী বিষক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তাই তিনি নির্দেশ দিলেন বস্তুটি আরও পাতলা করে দিতে। হানিম্যান বিশ্বাস করতেন যে, সাক্কুসিয়ন পাতলা করা বস্তুর প্রাণশক্তিকে সক্রিয় করে তার সবলতা বাড়িয়ে দেয়। সাক্কুসিয়ন করার সুবিধার জন্য হানিম্যান জিন নির্মাতাকে দিয়ে একটা বিশেষপ্রকার কাঠের আঘাত করার বোর্ড বানালেন, এক দিকটা ঘোড়ার চুল ঠেসে চামড়া দিয়ে আবৃত করে অদ্রবনীয় বস্তু যেমন ঝিনুকের খোলা এবং বালি দুগ্ধশর্করার সাথে পিষে পাতলা(ট্রাইটুরেশন)করা হয়।

লঘুকরণ:
হোমিওপ্যাথিতে তিনটি লগারিদ্মিক শক্তির মাপকাঠি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। হানিম্যান সি স্কেল বা সেন্টেসিমাল স্কেল তৈরী করেন প্রতি ধাপে ১০০ ভাগে ভাগ করে। হানিম্যান প্রায় সারা জীবন সেন্টেসিমাল মাপকাঠিই পছন্দ করেছেন। একটা ২সি লঘুকরণ একটা বস্তুকে একশ ভাগের একভাগ লঘু করতে লাগে, তারপর তার থেকে কিছুটা আবার একশর গুণনীয়ক দিয়ে পাতলা করা হয়।

ফলতঃ দ্রবণটি মূল দ্রবণের থেকে ১০,০০০ ভাগের একভাগ পাতলা হয়। একটা ৬সি তরলীকরণ এই প্রক্রিয়াকে ছয়বার পুনরাবৃত্তি করে, যার ফলে মূল দ্রবণ তরল হয়ে যায় একটা গুণনীয়ক, 100−6=10−12দিয়ে (এক ট্রিলিয়ন ভাগের একভাগ দিয়ে বা 1/1,000,000,000,000).এর বেশী লঘুকরণ হয় একইভাবে। হোমিওপ্যাথিতে একটা দ্রবণ যত পাতলা হবে তত বেশী শক্তি হবে বলা হয় এবং হোমিওপ্যাথদের দ্বারা বেশী লঘু বস্তু বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন হয় এবং বেশী গভীরে গিয়ে কাজ করে বলে বিবেচনা করা হয়। শেষ বস্তুটি এত পাতলা হয়ে যায় যে তাকে লঘুকরণের পদার্থ (শুদ্ধ জল, শর্করা বা এ্যালকোহল) থেকে আলাদা করা যায় না ।

হানিম্যান ৩০সি লঘুকরণের প্রবক্তা ছিলেন (তার মানে 1060).তাঁর সময়ে এটা ধরে নেওয়া স্বাভাবিক ছিল যে নিরাময়গুলি যত ইচ্ছে পাতলা করা যায়, যেহেতু অনু বা পরমানুর একটা রাসায়নিক দ্রব্যের সবথেকে ছোট সম্ভব একক, এটা বোঝা সবে শুরু হয়েছিল। সবথেকে লঘুকৃত দ্রবণ যার মধ্যে একটা অন্ততঃ মুল বস্তুর অনু থাকবে, তা হচ্ছে 12C.

প্রমাণ সমূহ (প্রোভিংস):
হানিম্যান নিজের উপর এবং অন্যদের উপর ওষুধগুলি পরীক্ষা করেছিলেন, অসুস্থদের নিরাময় দেওয়ার আগে। প্রথমে তিনি অসুস্থদের নিরাময় দেন নি, কারণ তিনি ভেবেছিলেন যে, প্রায় একই রকম নিরাময়, রোগের মত একই রকম অভিলক্ষন দেখানোয়, বোঝা অসম্ভব হয়ে যাবে কোন অভিলক্ষণ নিরাময় থেকে এসেছে আর কোনটা রোগটি থেকে।

তাই অসুস্থ লোকেদের এই পরীক্ষা থেকে বাদ রাখা হয়েছিল। কোন নিরাময়টা কোন বিশেষ রোগের জন্য কার্যকরী তা ঠিক করাকে বলা হত প্রোভিং, মূল জার্মান শব্দ এর অনুকরনে যার মানে “পরীক্ষা”। একটি হোমিওপ্যাথিক প্রোভিং হচ্ছে সেই পদ্ধতি যার সাহায্যে হোমিওপ্যাথিক রিমেডির রুপরেখা নির্ণীত হয়।

ঔষধি গাছ সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

namaj.info bd news update 24 short film bd _Add
.
*** নিজে সুস্থ থাকি , অন্যকে সুস্থ রাখি । সাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ে যে কোন প্রশ্ন থাকলে জানাতে পারেন ! হোমিওপ্যাথি বিডি.কম একটি ফ্রী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জন্য তৈরী বাংলা ব্লগ সাইট । ***